স্বাভাবিক প্রসবে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃষ্টান্ত স্থাপন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগস্ট মাসে ১৫৬টি ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ১৫৩টি স্বাভাবিক ও ৩টি সিজারিয়ান সেকশন। গত মাসেই এক দিনে স্বাভাবিক ডেলিভারির মাধ্যমে ১৬টি শিশু প্রসব করানোর রেকর্ডও করে উপজেলা হাসপাতাল। দিন দিন স্বাভাবিক প্রসবে (নরমাল ডেলিভারি) দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। হাসপাতালের এ কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আজ শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. নুর উদ্দিন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধি করা। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি নিরাপদ। আমরা সেটিই করার চেষ্টা করছি এবং সফলও হচ্ছি।’
তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৭১৫টি ডেলিভারি হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যার মধ্যে মাত্র ১৮টি সিজারিয়ান সেকশন। বাকি সবগুলো স্বাভাবিক প্রসব।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে সিজারের (অস্ত্রোপচার) একটি অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। মানুষ ধরে নিত যে ডেলিভারি মানে সিজার করাতে হবে। আমরা মা ও শিশুর সুস্থ-সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে চাই। সে জন্য খুব বাধ্য না হলে, কোনোভাবেই সিজারে যেতে চাই না। আমাদের হাসপাতালে এ কারণেই সিজারের চেয়ে বহুগুণ বেশি নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে।’
ডা. নুর উদ্দিন বলেন, ‘এ এলাকার গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা যাতে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে না হয় এবং দালালদের খপ্পরে পড়ে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সেজন্য উপজেলা হাসপাতালে ডেলিভারি সেবা বৃদ্ধি করছি। সরকারি খরছে সরকারি হাসপাতালে সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা করে যাচ্ছি। ডেলিভারি করতে আমাদের হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে।’
ইউএইচএফপিও বলেন, ‘২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের সেবা যত্ন ও সচেতন করি। গর্ভবতী মায়েদের হেলথ কার্ড সরবরাহ করা হয়। মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ করে যাতে গর্ভবতীদের ডেলিভারির জন্য উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য সহকারীদের তদারকি করি। ডেলিভারি করতে হাসপাতালমুখি প্রচারণায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও সহযোগিতা নেওয়া হয়।’
ডা. নুর উদ্দিন বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের কাউন্সিলিং করেন। তারা মায়েদেরকে হাসপাতালে পাঠাতে ও নরমাল ডেলিভারি করতে উদ্বুদ্ধ করেন।’
নরমাল ডেলিভারিতে মা ও তাঁদের স্বজনরা তৃপ্তি পান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গত ৮ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিক ডেলিভারির মাধ্যমে ১৯টি শিশু প্রসব করানো হয়েছে। ওই মাসে মোট ডেলিভারি হয়েছে ১১৩টি, যার মধ্যে ১১০টি স্বাভাবিক, বাকি ৩টি সিজারিয়ান। স্বাভাবিক ডেলিভারির পর মা ও তাদের স্বজনরা খুব খশি হয়।’
প্রতি মাসে এতগুলো নরমাল ডেলিভারি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএইচএফপিও। তিনি জানান, সীমিত সুবিধা নিয়েও রোগীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে এই হাসপাতালে অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের ডেলিভারির হার অনেক বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারিকে গুরুত্ব দেওয়ায় প্রসূতিদের আগমন বেড়েছে। বিশেযজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে একটি দল এখানে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এএইচ/এমইউ
-
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
-
০১ অগাস্ট, ২০২৩